যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব ইরানের; পর্যালোচনা করলেও মেনে নেয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের শান্তি প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ
পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের নতুন কিছু তথ্য সামনে এনেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই প্রস্তাবের তিনটি প্রধান পর্যায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
৩০ দিনের সময়সীমা: প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ সমাপ্তিতে রূপান্তর করা।
অনাক্রমণ চুক্তি: এই পরিকল্পনায় একটি 'পারস্পরিক অনাক্রমণ' অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। এতে ইসরায়েলকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে পুনরায় যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা না থাকে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান ঘটে।
প্রথম ধাপ ও হরমুজ প্রণালী: প্রস্তাবের প্রথম ধাপে পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
মাইন অপসারণ: সমুদ্রপথে মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তেহরান নিজে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই শান্তি পরিকল্পনার মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক পথগুলো পুনরায় সচল করতে চাইছে। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে ওয়াশিংটন বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন ও রকেট হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যান লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথক এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (০৮:৩০ জিএমটি) দক্ষিণ লেবাননের 'আল-বায়াদ' শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর একটি 'কামিকাজে' (আত্মঘাতী) ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি সামরিক যান সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তারা।
পরবর্তীতে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে (১১:৩০ জিএমটি) মারজায়ুন জেলার 'আল-কান্তারা' শহরে ইসরায়েলি সেনা ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। তবে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে তারা আরও অভিযোগ করে, দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি আগ্রাসনে বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরান উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা: ইউকেএমটিও
ইরান উপকূলে একটি বড় পণ্যবাহী জাহাজ (বাল্ক ক্যারিয়ার) হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা 'ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস' (ইউকেএমটিও)। বেশ কয়েকটি ছোট নৌযান এই হামলা চালিয়েছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ইরানের সিরিক থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে উত্তর দিকে যাওয়ার সময় জাহাজটি আক্রান্ত হয়।
তবে আশস্ত হওয়ার মতো বিষয় হলো, হামলার শিকার হওয়া জাহাজের সকল ক্রু বা নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনার ফলে সাগরে কোনো ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর 'কবরস্থান' বানানোর হুমকি ইরানের
হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর জন্য 'কবরস্থান' বানানোর হুমকি দিয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী নেতা ও রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজায়ি। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের 'জলদস্যু' হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
বর্তমানে ইরানের 'এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল'-এর সচিব হিসেবে দায়িত্বরত রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু যাদের কাছে বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) রয়েছে। জলদস্যুদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা আমাদের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।'
মার্কিন বাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আপনাদের রণতরী এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি কবরস্থান দেখার প্রস্তুতি নিন। ঠিক যেভাবে ইসফাহানে আপনাদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল, এখানেও তেমনটাই ঘটবে।'
মার্কিন নৌ-অবরোধ এড়িয়ে ২২০ মিলিয়ন ডলারের তেল নিয়ে এশিয়ায় ইরানি সুপারট্যাঙ্কার
মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নজরদারি ও অবরোধ সফলভাবে এড়িয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে ইরানের একটি বিশালাকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৯ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস ডটকম'।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্যাঙ্কার ট্র্যাকারস জানিয়েছে, 'হিউজ' নামের এই সুপারট্যাঙ্কারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার লুম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর আগে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে শ্রীলঙ্কার উপকূলে জাহাজটিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
সংস্থাটি জানায়, গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী যখন ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে, তখন 'হিউজ' ইরানের জলসীমায় অবস্থান করছিল। ২০ মার্চ মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই জাহাজটির 'অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম' (এআইএস) বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে এটি রাডারের নজরদারি এড়িয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
গত ২৯ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে, দেশটির অন্তত ৫২টি জাহাজ মার্কিন অবরোধ সফলভাবে ভেঙেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪১টি নৌযানকে তারা পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং এর ফলে ইরানের শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান বর্তমানে তাদের উৎপাদিত তেল রপ্তানি করতে পারছে না এবং বাধ্য হয়ে তারা তেল মজুত করছে। একপর্যায়ে মজুত করার ধারণক্ষমতা ফুরিয়ে গেলে ইরান তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে বলেও মনে করছে ওয়াশিংটন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলকে ১ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েলকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০ হাজার উন্নত 'প্রিসিশন উইপন কিট' সরবরাহ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই সমরাস্ত্র ব্যবস্থাটি মূলত আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইলকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী যুদ্ধাস্ত্রে রূপান্তর করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ড্রোনের মতো আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
হারেৎজ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিস্টেমটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ালেও সব ধরনের ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না। বিশেষ করে ছোট এবং 'ভিশন-ভিত্তিক' ড্রোনের বিরুদ্ধে এটি খুব একটা কাজে আসবে না। উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য বর্তমানে এ ধরনের ড্রোনগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানের শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন ট্রাম্প, গ্রহণের বিষয়ে 'সন্দিহান'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে এই প্রস্তাবের সফলতা বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার এই অবস্থানের কথা জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, 'ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, আমি শিগগিরই তা পর্যালোচনা করব। তবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ তারা গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের সঙ্গে ইরান যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য চোকাায়নি।'
তথ্যসূত্র: ডন
ইরান 'বাজে আচরণ' করলে আবারও হামলা হতে পারে: ট্রাম্প
ইরান যদি 'বাজে আচরণ' করে, তবে দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নতুন করে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরান 'খারাপ কিছু' করলে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আপাতত তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান ও লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তি করতে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেহরান।
সূত্র দুটি আরও জানায়, ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই চুক্তি হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও এক মাস সময় বর্ধিত হবে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। এরপরই তিনি ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন এবং শনিবার আরব সাগরে থাকা মার্কিন রণতরি ইউএসএস ত্রিপোলিতে সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন।
শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন। তবে শনিবার পাম বিচ থেকে মিয়ামির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিমানে বসে তিনি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি এটি দেখছি। পরে আপনাদের জানাব... তারা আমাকে চুক্তির মূল বিষয়টি বলেছে। এখন তারা আমাকে বিস্তারিত জানাবে।'
তবে এর কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, তিনি 'ভাবতেই পারছেন না যে এটি (ইরানের প্রস্তাব) গ্রহণযোগ্য হবে'। তিনি আরও বলেন, 'গত ৪৭ বছর ধরে মানবতা ও বিশ্বের সঙ্গে ইরান যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য চোকাায়নি।'
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস
যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার পাল্টা প্রস্তাব ইরানের
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ১৪ দফার একটি পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের দেওয়া এই পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিক হলো—আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করে চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ শেষ করা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ইরান তা ৩০ দিনে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১৪ দফার মধ্যে আরও রয়েছে—ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না এমন নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি, ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের অবসান, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে লড়াই বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
সংবাদমাধ্যম এনপিআর এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। শুক্রবার একজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, নথিটি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে শর্তগুলো প্রকাশ করেননি তিনি । অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন যে তিনি নতুন এই প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি রূপরেখা পেশ করেছিল। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল।
গত শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, এ পর্যন্ত ইরানের দেওয়া প্রস্তাবগুলো তাকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, 'তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই; তাই দেখা যাক কী হয়।'
তথ্যসূত্র: এনপিআর
